যুক্তরাজ্যের ব্যবসায়ীরা ব্রেক্সিট-পরবর্তী বাণিজ্য নীতিতে সুফল পায়নি বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ চেম্বারস অব কমার্স (বিসিসি)। সংগঠনটি বলছে, এখনো দেশটির অনেক রফতানিকারক বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে। একই সঙ্গে নতুন বছরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সমন্বয় করে নীতি ‘পুনর্গঠনের’ আহ্বান জানানো হয়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
এক হাজারের বেশি সদস্য কোম্পানির ওপর সম্প্রতি জরিপ পরিচালনা করেছে বিসিসি। সেখানে ১৫ শতাংশ কোম্পানি বলেছে, ইইউর সঙ্গে স্বাক্ষরিত ট্রেড অ্যান্ড কো-অপারেশন এগ্রিমেন্ট (টিসিএ) অঞ্চলটিতে বিক্রয় বাড়াতে সাহায্য করেছে।
বরিস জনসন প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ২০২০ সালে ডিসেম্বরের শেষ দিকে টিসিএ স্বাক্ষরিত হয়। জরিপে ৪০ শতাংশ কোম্পানি বলেছে, এ চুক্তি ইইউতে বিক্রি বাড়াতে কোনোভাবে সাহায্য করেনি। ৪৬ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, ইউরোপে যুক্তরাজ্যের কর্মীদের কাজ করার প্রক্রিয়া সহজ করা হোক।
এ বিষয়ে বিসিসির মহাপরিচালক শেভন হ্যাভিল্যান্ডের মত, কিছু বাণিজ্য বাধা দূর করার মাধ্যমে ইইউর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলা যেতে পারে। এতে র্যাচেল রিভস ঘোষিত বাজেটে আরোপিত উচ্চ করের প্রভাব কিছুটা কমতে পারে।
তিনি বলেন, ‘ইইউর সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কের নতুন যুগের কথা অনেকবার বলেছে সরকার। কিন্তু ব্যবসায়িক কার্যক্রম এখন ক্রমবর্ধমান খরচের সম্মুখীন হচ্ছে। এ বৃদ্ধির কারণ হলো গত বাজেট। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পরিবর্তন হওয়া উচিত।’
হ্যাভিল্যান্ডের মতে, মন্ত্রীরা যেন অঞ্চলজুড়ে তরুণদের চলাচল বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা করেন, যা ইইউ কর্মীদের যুক্তরাজ্যে এবং ব্রিটিশ কর্মীদের ইইউতে যাওয়ার সুযোগ দেবে। অবশ্য এটি ইইউ দেশগুলোরও অন্যতম দাবি। তবে ব্রিটিশ সরকার এতে সাড়া দিতে এখন পর্যন্ত সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
জরিপ অনুসারে, নথি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, ব্যবসায়িক ভ্রমণের ক্ষেত্রে আরো নমনীয়তা দেখতে চান ব্রিটিশ ব্যবসায়ীরা। এছাড়া ব্রেক্সিট চুক্তির ভ্যাটসংক্রান্ত নীতির উন্নতি চান ৩৬ শতাংশ উত্তরদাতা। পেশাগত যোগ্যতার পারস্পরিক স্বীকৃতি চায় ২৪ শতাংশ।
ব্রিটিশ সরকারও এমন একটি চুক্তি চায় যার অধীনে স্থপতি, ডাক্তার ও হিসাবরক্ষকের মতো পেশাজীবীরা যেন যুক্তরাজ্য থেকে ইইউর বিভিন্ন দেশে কাজ করতে পারবেন।
জরিপে দেখা গেছে, ৭৭ শতাংশ ব্রিটিশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ইইউর নতুন নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ম সম্পর্কে কোনো ধারণা রাখে না, যা জানুয়ারি থেকে ইইউর ২৭টি সদস্য দেশের সঙ্গে রফতানিতে প্রভাব ফেলবে।
সম্প্রতি লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের সেন্টার ফর ইকোনমিক পারফরম্যান্সের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রথম দুই বছরে টিসিএর কারণে ২ হাজার ৭০০ কোটি পাউন্ড বাণিজ্য কমেছে, যা স্বাধীন সংস্থা অফিস ফর বাজেট রেসপনসিবিলিটির পূর্বাভাস করা ক্ষতির অর্ধেক।